No Result
View All Result
BAITUL HIKMAH INSTITUTE
No Result
View All Result
BAITUL HIKMAH INSTITUTE
No Result
View All Result
  • Hadith
  • Arabic Articles
  • Arabic Language
  • Bengali Articles
  • Student Notes
  • About Us

দুই দিনের ইলমি সফরে ইংল্যান্ডের একাধিক শহরে

7 August 2021
Home Bengali Articles

মাহফুয আহমদ

শিক্ষাবিদ কয়েকজন আলেমের সান্নিধ্য-সৌরভ নিতে, দ্বীনি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে এবং ব্যক্তিগত জরুরি কিছু কাজ আঞ্জাম দিতে ইংল্যান্ডের একাধিক শহর ঘুরতে বের হই। ২রা জুন বিকেল ৩টায় লন্ডন থেকে সূচনা হয় আমাদের এই শিক্ষা সফর। তিনজনের কাফেলায় আমার সঙ্গে ছিলেন ভায়রা মাওলানা জমিল আহমদ এবং একমাত্র শ্যালক হাফিয মুস্তফা জামান। মজার ব্যাপার হলো, সফরসঙ্গী প্রত্যেকেরই ইচ্ছা ছিলো নিজের গাড়ি ড্রাইভ করবেন। পরে সিদ্ধান্ত হলো, ভায়রা মাওলানা জমিল সাহেব তাঁর গাড়ি নিবেন এই যাত্রায়! তিনিই ড্রাইভ করলেন পুরো পথ। প্রথমেই আমরা রওয়ানা হই বার্মিংহামের উদ্দেশে।

শায়খুল হাদিস মাহমুদ হোসাইন সাহেবের সাহচর্যেঃ

বার্মিংহাম পৌঁছে আমরা সোজা চলে যাই বন্ধুবর মাওলানা আবদুস সামাদ ভাইয়ের ঘরে। সেখানে আসর আদায় করে রওয়ানা দিলাম মসজিদে তাক্বওয়ার উদ্দেশে; শ্রদ্ধাস্পদ মাওলানা হাফিয আবদুল্লাহ ফাহিম ভাইয়ের দেখা পেতে। তাঁর রাহবারিতে পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্ব শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফিয মাহমুদ হোসাইন সাহেব হাফিযাহুল্লাহ এর সান্নিধ্য লাভ করতে।

বাংলাদেশের সচেতন আলেমদের নিকট শায়খের নামটি অপরিচিত নয়। আর সিলেটের, বিশেষত আযাদ দ্বীনি এদারায় পড়ুয়া ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে তিনি কেবল সুপরিচিতই নন; বরং অতি প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে বহুমুখী প্রতিভা দান করেছেন। ‘জ্ঞানের সাগর’ বলে যে অভিধা আমরা পূর্বসূরি মনীষীদের জীবনবৃত্তান্তে পেয়ে থাকি; হযরত সেটার এক জীবন্ত নমুনা। বাংলা-আরবি-উর্দু ভাষায় লিখিত হযরতের বইগুলো বেশ উপকারী এবং পাঠকপ্রিয়।

ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী এই মনীষীর সাহচর্যে কিছু সময় অতিবাহিত করতে পারা সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। হযরত যদিও সরাসরি আমার উসতায নন, কিন্তু তিনি আমার উসতাযদের প্রিয়তম উসতায। সেজন্য তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার নিয়তেই এ সাক্ষাতপর্ব।

ঘণ্টাব্যাপী সে মোলাকাত ছিলো এই অধমের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি এবং জীবন পথের পাথেয়। হুজুর তাঁর জীবনের অনেক স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। লেখালেখির গতিবিধি সম্পর্কে অবগত করলেন।

অধমের সামান্য কয়েকটি আরবি কাজ হুজুরের সামনে উপস্থাপন করলাম। তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বইগুলো হাতে নিয়ে হুজুর এই অধমের জন্য দোয়া করলেন এবং উৎসাহ দিলেন। কাজগুলো যেন অব্যাহত রাখি- সেই নসিহত প্রদান করলেন।

হযরতের ইলমি মজলিস থেকে সমৃদ্ধ হয়ে আমরা ছুটে চলি জামেয়া ইসলামিয়া বার্মিংহামের দিকে; যেখানে হযরত সহিহ বোখারির দারস দিয়ে থাকেন। মাদরাসার সুদর্শন শিক্ষাভবন, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস এবং মাকতাবা (লাইব্রেরি) ঘুরে দেখলাম।

পুরো সময় হযরতের সুযোগ্য ছেলে মাওলানা আবদুল্লাহ ফাহিম ভাই আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন, গাইড করেছেন। ফাহিম ভাই জামেয়া ইসলামিয়া বার্মিংহাম থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে ‘লো’ এর ওপর এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর ইউস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্সও করেছেন। মাশাআল্লাহ, প্রতিভাবান এই তরুণ আলেম আজকাল বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাঁর কয়েকটি ইংলিশ বই বের হয়েছে; যেগুলো এখানকার ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উপকারী সাব্যস্ত হচ্ছে। হযরতের ছোট ছেলে মাওলানা আবদুল্লাহ নাবিল সাহেবের সঙ্গেও দেখা হলো। তাঁদের আতিথেয়তা ছিলো মুগ্ধ করবার মতো।

জামেয়া ইসলামিয়া বার্মিংহাম পরিদর্শন শেষে সালাতুল মাগরিব আদায় করতে চলে গেলাম আরেকটি মসজিদে; সেটির নামও মসজিদুত তাক্বওয়া। সেখানে মাওলানা ফয়জুল হক আবদুল আজিজ সাহেব এবং প্রখ্যাত হাফিয মাওলানা বিলাল সাহেব (সাবেক স্বনামধন্য শিক্ষক, বহরগ্রাম মাদরাসা, সিলেট) উভয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো।

সবমিলিয়ে ভালো লাগা এক বিকেল কাটিয়ে আমরা ছুটে চললাম পরবর্তী কর্মসূচির পথে।

শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফিয মাহমুদ হোসাইন সাহেব হাফিযাহুল্লাহ এর সুযোগ্য ছেলে মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফাহিম ভাই একজন প্রতিভাবান তরুণ আলেম। কর্মোদ্যম এই তরুণ ইতোপূর্বে বেশ কিছু কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। এদেশের মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর চিন্তা ও পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। ইংলিশ ভাষায় ইসলামিক রিসোর্স রচনা ও প্রকাশনা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

মুফতি কিফায়াতুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ রচিত ‘তালিমুল ইসলাম’ বইখানা খুবই সমাদৃত। পাক-ভারত উপমহাদেশে এই কিতাবের যথেষ্ট কদর রয়েছে। Abdullah Fahim ভাই সেটা ইংলিশে অনুবাদ করে এখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরাট খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। মুহতারাম মাওলানা সালমান ভাই তাঁর ‘দারুল কোরআন লন্ডন’ থেকে বইটি ছেপেছেন। আজকাল দারুল কোরআন লন্ডনও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর সুন্দর অনেক কাজ উপহার দিয়ে যাচ্ছে।

আস সুফফা ইন্সটিটিউট পরিদর্শনঃ

বাদ মাগরিব আমরা হাজির হই বার্মিংহামের স্বনামখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘আস সুফফা ইন্সটিটিউট’ এর আধুনিক ক্যাম্পাসে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাসচিব মুফতি লিয়াকত জামান সাহেবের সঙ্গে আগে থেকেই কথা হয়েছিলো। তিনি আমাদের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।

মুফতি লিয়াকত জামান বিন্নুরি টাউন মাদরাসা (করাচি) থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং ইফতা সম্পন্ন করেছেন। তারপর ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি আস সুফফার সঙ্গে যুক্ত হন। একজন বিদগ্ধ আলেম হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে বিদ্বানমহলে। অনলাইনেও রয়েছে তাঁর সরব পদচারণা। ট্র্যাডিশনাল এবং ক্লাসিকাল ইলমকে তিনি সময়োপযোগী ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর উদ্দেশ্য জেনারেল লাইনে পড়ুয়াদেরও দ্বীনি ইলমের কাছাকাছি নিয়ে আসা।

আস সুফফার মনোরম ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। চা-নাস্তা পরিবেশন করলেন। আস সুফফা ইন্সটিটিউট এর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমার প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর প্রদান করেন মুফতি লিয়াকত জামান। পরে তিনি ইন্সটিটিউটের ক্লাসরুম, হলরুম এবং লাইব্রেরি ঘুরে দেখালেন। ছয় বছরের আলিমিয়্যাহ কোর্সের ডিজাইন এভাবে করা হয়েছে যে, শেষ দুবছরে যাতে শিক্ষার্থীরা বিএ (অনার্স) এর ডিগ্রিও অর্জন করে নিতে পারে মার্কফিল্ড ইন্সটিটিউট থেকে। তাদের প্রতিটি ক্লাসরুম অত্যাধুনিক সব ইকুইপমেন্ট দ্বারা সজ্জিত। শিক্ষা কারিকুলামে আরবি ভাষা, ক্রিটিকাল থিংকিং, রিসার্চ ইত্যাদির ওপর বেশ জোর দেওয়া হয় বলে তিনি জানালেন।

আস সুফফা ইন্সটিটিউটে মুফতি লিয়াকত জামান সাহেবের সঙ্গে এই সাক্ষাতপর্ব আমার জন্য খুবই জরুরি ও উপকারী ছিলো, আলহামদুলিল্লাহ। সেখান থেকে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে আমরা বের হই।

ইন্সটিটিউটের পাশেই বার্মিংহামে আমাদের মেজবান, বন্ধুবর মাওলানা আবদুস সামাদ ভাইয়ের ঘর। তিনি নৈশভোজের দাওয়াত দিয়ে রেখেছেন আরও কয়েকজন আলেমকে। এ সুযোগে মাওলানা আবু আসকর, মুফতি তাজুল ইসলাম, হাফিয হোসাইন সাহেবদের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেলো। দীর্ঘসময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হলো। আবদুস সামাদ ভাইয়ের সহধর্মিণী ডিনারের জন্য বাহারি খাবারের আয়োজন করেন। খাবারের আইটেমে যেমন ছিলো অভিনবত্ব এবং ঐতিহ্যের ছাপ, তেমনি রান্নাও ছিলো খুবই স্বাদের।

ম্যানচেস্টারে দারুল মুত্তাকিনের অফিসেঃ

সকালে আবদুস সামাদ ভাইয়ের ঘরে নাস্তা সেরেই আমরা রওয়ানা দেই ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে। প্রায় দুই ঘণ্টা ড্রাইভ করে আমরা পৌঁছি সহিহ-সালামতে।

জর্ডানের দারুল ফাতহ থেকে সদ্য প্রকাশিত আমার দুটো আরবি বইয়ের কপিগুলো সংগ্রহ করতেই মূলত এখানে আসা। দারুল ফাতহ কপিগুলো পাঠিয়েছে এখানকার অনলাইন বুকশপ ‘দারুল মুত্তাকিন’ এর মাধ্যমে। বইয়ের ছয়টি বক্স গাড়িতে লোড করে আমাদের যেতে হয় দারুল মুত্তাকিনের সত্ত্বাধিকারী, মেধাবী আলেম, শায়খ আম্মার সালিম আল মাদানি সাহেবের অফিসে। তাঁর অফিস দেখে আমরা বিমোহিত হলাম। শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদির এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত পাঠাগারে। দুর্লভ ও নিত্যনতুন বইগুলো দিয়ে তিনি সাজিয়েছেন তাঁর লাইব্রেরিটি। শায়খ আম্মার নিজেও কয়েকটি আরবি গ্রন্থের লেখক ও প্রকাশক।

সেখানে আমরা শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করি। অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান হয় আমাদের মাঝে।

ব্লাকবোর্ন মাদরাসায় মুগ্ধতার এক দুপুরঃ

ম্যানচেস্টার থেকে আমরা রওয়ানা হই ব্লাকবোর্নের দিকে। মাদরাসার উসতাযুল হাদিস, বিদগ্ধ তরুণ আলেম, মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেব আগে থেকে দাওয়াত দেয়ে রেখেছিলেন দুপুরের খাবারের জন্য। আমরা তাঁর ঘরে গিয়ে পৌঁছি বেলা একটায়। ঘরে তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি দেখে মুগ্ধ-বিমোহিত হলাম। এত বিশাল সংগ্রহ তাঁর। আরবি-উর্দু-ইংলিশ সব ভাষারই কিতাবে ভরপুর। তাঁর ঘরের পাশে তাঁর শ্রদ্ধেয় আব্বার ঘরেও নিয়ে গেলেন। সেখানে তো অবাক কাণ্ড। কিতাবের সংগ্রহ দেখে ইমপ্রেসড হলাম। তাঁর আব্বা হলেন ইংল্যান্ডের সিনিয়র আলেম, আকাবিরে দেওবন্দের সুহবতপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বুযুর্গ, শায়খুল হাদিস মুফতি শাব্বির সাহেব হাফিযাহুল্লাহ। আসার পথে হযরতের সঙ্গে দেখা করে দোয়া নেওয়ার সুযোগ লাভ করি।

মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেব আমাদের জন্য রকমারি আইটেমের বাহারি খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর আতিথেয়তায় আমরা বেশ পুলকিত হয়েছি৷ সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ছিলো, আমরা যে রুমে এবং যে ঘরে বসে খবর গ্রহণ করেছি; সেই একই স্থানে প্রথিতযশা অনেক মনীষী বসেছেন এবং খাবার গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আল্লামা ইউনুস জৌনপুরি, আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরি, আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি সাহেব সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ফেরার পথে তিনি নিজের এবং আল্লামা ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহর বেশ কিছু কিতাব হাদিয়া দিয়ে ধন্য করলেন।

পরে মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেব আমাদের নিয়ে গেলেন জামিয়াতুল ইলমি ওয়াল হুদা তথা ব্লাকবোর্ন বোর্ডিং মাদরাসায়। সেখানে আমরা সালাতুয যুহর আদায় করি। তারপর মাওলানা মুয়াবিয়া সাহেব আমাদের নিয়ে যান তাঁর অফিসে। তাঁর লেখা প্রায় পনেরটি ক্লাসিকাল ইংলিশ বই আমাদের গিফট করেন। তিন সেট বই আমাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা করে দিলেন। এরপর দেখা করি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মুফতি আবদুস সামাদ সাহেব হাফিযাহুল্লাহর সঙ্গে। এতোবড় একজন ব্যক্তিত্ব, কিন্তু মাটির মতো বিনয়ী মানুষ তিনি। তারপর মাওলানা মুয়াবিয়া এবং মুফতি ইউসুফ শাব্বির আমাদের নিয়ে পুরো মাদরাসা ঘুরে দেখালেন। তাদের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি দেখে ভালো লাগলো। মাদরাসার বিশাল বিল্ডিংয়ের পাশেই পাঁচতলা বিশিষ্ট নতুন আরেকটি ভবন নির্মিত হয়েছে; মেয়েদের মাদরাসা চালু করার জন্য।

সবমিলিয়ে এক রাশ মুগ্ধতা নিয়ে আমরা ফিরেছি ব্লাকবোর্ন থেকে। শ্রদ্ধাস্পদ মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেব পুরো এই সময় আমাদের সঙ্গ দিয়ে কৃতার্থ করলেন। তাঁর বদান্যতায় অনেক দুর্লভ কিতাব এবং মনীষীদের হস্তলিপি দেখবার সৌভাগ্য অর্জন করলাম।

আমাদের বিগত ইলমি সফরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ ছিলো বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাকতাবা (লাইব্রেরি) পরিদর্শন করা। আলহামদুলিল্লাহ! একাধিক মাদরাসা ও ইন্সটিটিউটের লাইব্রেরি আমরা ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আর ব্যক্তিগত যে কয়েকটি লাইব্রেরি আমরা দেখেছি তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিনটিঃ

এক. শায়খুল হাদিস মুফতি শাব্বির আহমদ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ এর মাকতাবা। ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত এই প্রবীণ আলেম ব্লাকবোর্ন মাদরাসার শায়খুল হাদিস হিসেবে খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন বহুবছর ধরে।

তাঁর মাকতাবাটি দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য আরবি-উর্দু গ্রন্থাদির বিশাল এক কালেকশন। বড় বড় তিনটি রুম শুধু কিতাবে ঠাসা। নিত্যনতুন ছাপার বইও চোখে পড়বার মতো। তবে আমার বেশ ভালো লেগেছে মুফতি শাব্বির সাহেবের নোটগুলো। গত কয়েক দশক ধরে তিনি হাদিসের মৌলিক অনেক গ্রন্থের দারস দিয়ে আসছেন। তাঁর নিয়ম হলো, তিনি যে কিতাবের দারস প্রদান করেন; সেই কিতাবের ব্যক্তিগত কপিতে তিনি প্রয়োজনীয় নোটস যুক্ত করে দেন৷ সেজন্য সহিহ বোখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, মিশকাতুল মাসাবিহ প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর নোটে ভরপুর।

চমৎকার আরেকটি কাজ তিনি করে থাকেন; যা দেখে মুগ্ধ হয়েছি৷ সেটি হলো, কোনো জায়গায় যদি নোটস বেশ দীর্ঘ হয়ে যায় তাহলে ওই স্থানে তিনি বর্ধিত একটি কাগজের পাতা লাগিয়ে দেন। মজার ব্যাপার হলো, হযরতের হস্তলিপি কিছুটা অস্পষ্ট হওয়ায় নোটগুলো তিনি নিজেই বইয়ে লিখে রাখেন না। বরং তিনি ভিন্ন একটি পৃষ্ঠায় সেগুলো ড্রাফট করে দেন। তারপর হযরতের স্ত্রী সেই নোটগুলো মূল বইয়ে স্বহস্তে লিখে রাখেন! মানে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর হস্তলিপি আরও পরিষ্কার এবং চমৎকারও বটে! কিতাবগুলোর পাতা উল্টাতে গিয়ে মহীয়সী ওই নারীর জন্য দিল থেকে দোয়া ও শোকরিয়া বের হলো।

শায়খুল হাদিস মুফতি শাব্বির আহমদ সাহেবের ব্যক্তিগত পাঠাগারের আরেকটা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি। নিকট অতীতের প্রথিতযশা বহু আলেমের হস্তলিখিত বইয়ের কপিও সংরক্ষিত আছে তাঁর লাইব্রেরিতে। বিশেষত শায়খুল হাদিস আল্লামা ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহর হস্তলিখিত নোটস ও রিসালাগুলো দেখে বেশ পুলক অনুভব করেছি।

দুই. হযরতের ঘরের পাশেই তাঁর সুযোগ্য পুত্র, কর্মোদ্যম তরুণ আলেম, মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেবের ঘর। মূলত এখানেই আমাদের মেহমানদারি করেছেন শ্রদ্ধাস্পদ মুফতি ইউসুফ সাহেব। সম্মানিত পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনিও গড়ে তুলেছেন বিশাল এক লাইব্রেরি। রুমের চতুর্দিকে শুধু কিতাব আর কিতাব। আরবি-উর্দু-ইংলিশ সব ভাষারই গ্রন্থ আছে এখানে।

মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেবের লাইব্রেরিতে একটা জিনিস দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। সেটা হলো, তিনি নিজের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত ফতোয়াগুলো প্রিন্ট করে বিষয়ভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ফোল্ডারে সাজিয়ে রেখেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, টেকনোলজির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না৷ আল্লাহ না করুক! কখনও যদি ওয়েবসাইটে প্রব্লেম দেখা দেয় এবং সবগুলো লেখা উদাও হয়ে যায়! সেজন্যই এই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন তিনি।

তিনি আমাদেরকে আরও কয়েকটি বড় বড় ফোল্ডার দেখালেন। ইতোমধ্যে আরবি ভাষায় রচিত তাঁর বেশ কয়েকটি বইয়ের সংকলন এগুলো। বিবিধ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র পুস্তিকা বা দীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করে চলছেন। সময়মতো ওসব একত্রিত করে গ্রন্থ-সমগ্র হিসেবে ছাপানো; তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা।

তিন. শায়খ আম্মার সালিম আল মাদানি হাফিযাহুল্লাহ এর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার। নতুন-পুরাতন ছাপার আরবি-উর্দু গ্রন্থাদির বড় এক সংগ্রহ। তিনিও নিকট অতীতের কয়েকজন আলেমের হস্তলিপি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কয়েকটি আমাদেরও দেখিয়েছেন।

তন্মধ্যে একটি হলো, পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন, শায়খুল হাদিস যারওয়ালি খান রাহিমাহুল্লাহ এর হস্তলিপি। বস্তুত মাওলানা যারওয়ালি খান তাঁকে ‘আনওয়ারুল মাহমুদ শারহু সুনানি আবি দাউদ’ কিতাবখানা হাদিয়া করেছিলেন। আর ওইসময় হযরত স্বহস্তে কয়েকটি লিখে দিয়েছিলেন।

তবে সবচেয়ে খুশির সংবাদ হলো, শায়খ আম্মার সালিম সাহেবের নিকট আল্লামা মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি রাহিমাহুল্লাহর একটি ‘আমালি’ রয়েছে। আল্লামা কাশ্মীরির দারস থেকে সংগৃহীত এই নোটগুলো দিয়ে তাঁরই একজন শাগরেদ একটি সংকলন প্রস্তুত করেছেন। উর্দু ও আরবির মিশ্রণ রয়েছে এতে। মাওলানা আম্মার সালিম এগুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

নিকট অতীতের একজন প্রথিতযশা হাদিস বিশারদ হলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহাম্মাদ ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহ। তিনি ছিলেন শায়খুল হাদিস যাকারিয়্যা রাহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য শীর্ষ ছাত্রদের একজন৷ হাদিস ও হাদিস সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের ওপর তাঁর ছিলো অগাধ পাণ্ডিত্য। সহিহ বোখারির বেলায় তিনি ছিলেন স্বীকৃত একজন স্পেশালিস্ট। আরব-অনারব সর্বত্র তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞান সমাদৃত হয়েছে সমান্তরালে।

ভারতের মাযাহিরুল উলূম সাহারানপুর মাদরাসায় তিনি আজীবন হাদিসের অধ্যাপনা করে গেছেন। তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন দলমত নির্বিশেষে বিশ্বের খ্যাতিমান অনেক মনীষী। বস্তুত হযরতের ইলম ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়াজুড়ে।

শায়খুল হাদিস ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে অনেক প্রশংসা শুনলেও দুর্ভাগ্যবশত তাঁর সম্পর্কে খুব বেশি পড়াশোনা হয়নি আমার। বহুদিনের সুপ্ত আকাঙ্খা ছিলো, হযরত রচিত, হযরতকে নিয়ে লিখিত এবং হযরতের দারসের আলোচনা থেকে সংকলিত গ্রন্থগুলো সংগ্রহ করবো এবং খুব সমৃদ্ধ হবো।

আলহামদুলিল্লাহ! বিগত ইলমি সফরে আল্লাহ তায়ালা সেই সুযোগ করে দিলেন বিনা খরচেই! আর তা শ্রদ্ধাস্পদ মুফতি ইউসুফ শাব্বির সাহেবের বদান্যতায়। তিনি এই অধমকে শায়খুল হাদিস ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহ সংক্রান্ত একাধিক গ্রন্থ হাদিয়া দিয়ে কৃতার্থ করলেন।

তন্মধ্যে একটি হলো, কুয়েতের প্রখ্যাত মুহাক্কিক আলেম, শায়খ মুহাম্মাদ বিন নাসির আলআজমি হাফিযাহুল্লাহ কর্তৃক সংকলিত শায়খুল হাদিস ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহর সমৃদ্ধ জীবনীগ্রন্থ। প্রায় চারশত পৃষ্ঠার এই আরবি জীবনীগ্রন্থে শায়খ আজমি উল্লেখ করেছেন আল্লামা ইউনুস জৌনপুরির সঙ্গে তাঁর ইলমি সম্পর্ক এবং উপকৃত হওয়ার মধুর উপাখ্যান। মাশাআল্লাহ লেখক মুহাম্মাদ বিন নাসির আজমি খুব চমৎকারভাবে অনেক দুর্লভ তথ্য উপস্থাপন করেছেন এই গ্রন্থে৷ শায়খুল হাদিস ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহর মুখনিঃসৃত ইলমি মণিমুক্তাগুলো আকর্ষণীয় ভাষায় তিনি পাঠকদের জন্য সমবেত করে দিয়েছেন।

পাশাপাশি বিচক্ষণ সংকলক তাঁর এই গ্রন্থে আরও কয়েকজন বিজ্ঞ আলেমের প্রবন্ধ যুক্ত করে দিয়েছেন। তাঁরা হলেন- বাহরাইনের শায়খ নিযাম ইয়াকুবি, ব্রিটেনের মুফতি শাব্বির আহমদ, মদিনার ড. খালিদ বিন মারগুব, রিয়াদের শায়খ মুহাম্মাদ যিয়াদ তুকলাহ, মক্কার শায়খ আবদুল্লাহ আততাওম, মদিনার শায়খ হামিদ আল বোখারি, দামেস্কের ড. উমর নুশুকাতি, জেদ্দার শায়খ উমর হাবিবুল্লাহ, ভারতের শায়খ আবদুল আহাদ গুজরাটি, কাতারের শায়খ মুহাম্মাদ রাহমাতুল্লাহ নদবি, তুরস্কের শায়খ মুহাম্মাদ ওয়াইল হাম্বলি, জেদ্দার কবি শায়খ আহমাদ মা’মারি, ব্রিটেনের শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ুব সুরতি, আলজেরিয়ার শায়খ আলী খালফাবি, দামেস্কের শায়খ নূরুদ্দিন তালিব এবং ব্রিটেনের মুফতি ইউসুফ শাব্বির।

বিজ্ঞ প্রবন্ধকারগণ কেবল ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং হযরত শায়খুল হাদিস ইউনুস জৌনপুরি রাহিমাহুল্লাহর ইলমি ফাওয়াইদ সন্নিবেশিত করেছেন খুব যত্নসহকারে। ফলে এটি নিছক একটি জীবনীগ্রন্থ নয়। বলতে গেলে এটি হযরতের জ্ঞান ও গবেষণার বিশেষ এক সংকলন। বইয়ের শুরুতে ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি পাঠকের জন্য মুগ্ধকর হবে বলে মনে করছি।

মুফতি সাইফুল ইসলাম সাহেবের সান্নিধ্যে কিছুক্ষণঃ

ব্লাকবোর্ন থেকে আমরা চলে আসি ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী শহর ব্রাডফোর্ডে। উদ্দেশ্য ছিলো জামেয়া খাতামুন নাবিয়্যিন মাদরাসা ভিজিট করা। আগে থেকেই যোগাযোগ হয়েছে মাদরাসাটির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম শায়খুল হাদিস মুফতি সাইফুল ইসলাম সাহেবের সঙ্গে।

ইংল্যান্ডে বাংলাদেশি আলেমদের গর্ব বলা হয় মুফতি সাইফুল ইসলাম সাহেবকে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের বহুবিধ খেদমত নিচ্ছেন। এসব দেখে যে কেউ অভিভূত না হয়ে থাকতে পারে না। জামেয়া খাতামুন নাবিয়্যিন প্রতিষ্ঠা করেছেন; যেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। নার্সারি, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুল; সাথে রয়েছে নানাবিধ আলিমিয়্যাহ প্রোগ্রাম।

মুফতি সাহেব আমাদেরকে খেজুর, জমজম ইত্যাদি দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ে তাঁর মুখনিঃসৃত মণিমুক্তা থেকে আমরা সমৃদ্ধ হলাম। কাজের প্রেরণা গ্রহণ করলাম।

ফেরার পথে তিনি আমাদের প্রত্যেককে স্বরচিত কয়েকটি বই হাদিয়া প্রদান করেন, সাথে আতরও।

মুফতি সাহেব ইংলিশ ভাষায় প্রায় শ খানেক বই ইতোমধ্যে লিখে ফেলেছেন, মাশাআল্লাহ। এক হাজার বই লিখে যাওয়া তাঁর জীবনের বড় একটি প্রত্যাশা। আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দান করুন।

ডিউজবারির ইলমি কাননেঃ

ব্রাডফোর্ড থেকে আমরা ছুটে চলি পরবর্তী গন্তব্যে, ডিউজবারির ইলমি কাননে। বস্তুত ডিউজবারি মাদরাসার একজন প্রচারবিমুখ প্রবীণ মুহাদ্দিস, মাওলানা ইউসুফ সাচা সাহেব হাফিযাহুল্লাহ এই অধমকে অনেক আগেই দাওয়াত দিয়ে রেখেছিলেন। এই সুযোগে তাঁর কথা রাখতে পারলাম।

মাদরাসায় পৌঁছতেই তিনি আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। সরাসরি নিয়ে গেলেন মাদরাসার সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে। সেখানে বসে আমরা দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন ইলমি বিষয়ে কথাবার্তা বলি। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো আল্লামা মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি রাহিমাহুল্লাহর ব্যক্তিত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে তাঁর বিরাট অবদানের প্রসঙ্গ।

মাওলানা ইউসুফ সাচা ডিউজবারি মাদরাসায় সুনানে আবু দাউদের দারস প্রদান করেন। আগাগোড়া একজন ইলমি মানুষ তিনি। জ্ঞানের উচ্চশিখরে আরোহন করলেও তিনি অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ী সত্যিকারের একজন আলেমে দ্বীন।

কথাপ্রসঙ্গে মাওলানা ইউসুফ সাচা এই অধমকে বললেন, সর্বপ্রথম আমি আপনার নাম শুনেছি আল্লামা কাশ্মীরির নাতী মাওলানা আহমদ খিজির শাহ সাহেবের মুখে। ১৯ সালে তিনি ইউকে সফরে এসে আমাকে জানালেন, মাওলানা মাহফুয আল্লামা কাশ্মীরি রাহিমাহুল্লাহর ‘ইলমি ফাওয়াইদ’ জমা করে একটি কিতাব রচনা করেছেন। সেই থেকে আপনার সম্পর্কে আমার জানাশোনা।

এরপর মাওলানা ইউসুফ সাচা বিবিধ প্রসঙ্গে কথা বললেন। বাংলাদেশের মাওলানা জহুরুল হক সাহেব রাহিমাহুল্লাহ সংকলিত আল্লামা কাশ্মীরি এর সুনানে আবু দাউদের ‘আমালি’ বা ‘নোটস’ নিয়ে কাজ করছি জেনে তিনি যারপরনাই আনন্দিত হলেন।

শিক্ষণীয় একটি ইলমি মজলিস শেষে আমরা আমন্ত্রিত হই মাওলানা আরব আলী সাহেবের ঘরে। মাওলানা আরব আলী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একমাত্র শিক্ষক; যিনি ডিউজবারি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। কেননা বাকি সব শিক্ষকই ইন্ডিয়ান, গুজরাটি বংশোদ্ভূত। তরুণ এই আলেম তার ঘরে আমাদের আপ্যায়ন করলেন খুব যত্নসহকারে।

সেখান থেকে আমরা লন্ডনের দিকে যাত্রা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় আমরা ঘরে এসে পৌঁছি সহিহ-সালামতে। আমাদের এই সফরটা ছিলো আনুমানিক আটশো কিলোমিটার ব্যাপী। সবমিলিয়ে দুই দিনের এই শিক্ষা সফরটি ছিলো আমাদের জন্য যুগপৎ উপভোগ্য ও শিক্ষণীয়। 

Share134Tweet84Send
admin

admin

Related Posts

No Content Available
No Result
View All Result

Categories

  • Arabic Articles (6)
  • Arabic Language (7)
  • Bengali Articles (1)
  • Courses (4)
  • Hadith (15)
  • Lectures (29)
  • Publications (5)
  • Student Notes (22)
No Result
View All Result
  • About Us
  • Basket
  • Checkout
  • Home 1
  • Home 2
  • Home 3
  • My account
  • Privacy Policy
  • Sample Page
  • Shop